বাংলায় সর্বপ্রথম, সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক ও সমস্যা সমাধানের উন্মুক্ত কমিউনিটি "হেল্পফুল হাব" এ আপনাকে স্বাগত, এখানে আপনি যে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর নিতে পারবেন একদম বিনামূল্যে এবং কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা থাকলে তা প্রদান করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশান না করেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন তবে, সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশান করুন!

> বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ প্রশ্ন-উত্তরভিত্তিক এবং সমস্যা সমাধানের উন্মুক্ত কমিউনিটি "হেল্পফুল হাব" এ আপনাকে স্বাগত, এখানে আপনি যে কোনো প্রশ্ন করে উত্তর নিতে পারবেন এবং কোনো প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা থাকলে তা প্রদান করতে পারবেন।

Welcome to Helpful Hub, where you can ask questions and receive answers from other members of the community.

15.1k টি প্রশ্ন

16.8k টি উত্তর

5.9k টি মন্তব্য

6.6k জন নিবন্ধিত

0 টি ভোট
244 বার প্রদর্শিত
  1. রিসালাত কি? রিসালাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর। [প্রশ্নটির সঠিক উত্তর চাই]


"ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন New User (0 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
রিসালাহ/রিসালাত শাব্দিক অর্থে রিসালাহ হচ্ছে যোগাযোগের প্রক্রিয়া, খবর, প্রাপ্ত অথবা পাঠানো, চিঠি, সংবাদ আদান-প্রদান, অভিসন্দর্ভ (thesis) ইত্যাদি। যে ব্যক্তি বার্তা বহন করেন বা যিনি যোগাযোগের (রিসালাতের) দায়িত্বে থাকেন তিনি হচ্ছেন রাসূল, দূত বা কূটনীতিক। রাসূল শব্দ ধর্মের বাইরেও ব্যবহার করা হত। প্রাচীন কালে বাদশাহ বা গভর্নর যখন অপর পক্ষে রাসূল (দূত) পাঠাতেন তখন তিনি একখানা চিঠি বাদশাহের পক্ষ থেকে নিয়ে যেতেন এবং এর মর্ম ব্যাখ্যা করতেন। কোন প্রশ্ন থাকলে তার উত্তরও দিতেন। আবার সেই দূতগীরি চিঠি ছাড়াও করতেন। এই প্রথা আজও রক্ষিত আছে। একটি দেশে অন্যদেশের দূত থাকেন, তাদের দূতাবাস থাকে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়াদি এই সংস্থার মাধ্যমে করা হয়। আজও চিঠি চলে, কিন্তু চিঠিতে যাবতীয় ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ থাকে না, দূতের মাধ্যমে বাণীর ব্যাখ্যা আসে, দ্বিমত ও ভিন্ন মতের নিরসন হয়। দূতাবাস তার নিজ দেশের স্বার্থ, ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক পলিসির বাস্তবায়ন ঘটান। কেবল চিঠি পাঠানোকেই এবং চিঠি গ্রহণ করাকেই সেদিনও কার্যকর ব্যবস্থা মনে করা হয়নি এবং আজো তা করা হচ্ছে না। চিঠি আপনাতেই সবকিছু প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনা। এটিও স্মরণ রাখা দরকার যে যখন কোন রাষ্ট্র অপর রাষ্ট্রের মোকাবেলায় তার পলিসি বাস্তবায়নে যায় তখন সেই কাজে গোটা জাতীর সবার সাথে কথা বলে না। সে তার নির্দিষ্ট সংস্থার সাথেই কথা বলে। আবার অপর রাষ্ট্রও বিপক্ষের গোটা জাতীর সাথে কথা বলে না বরং দূতাবাসের প্রধান দূতের সাথেই কথা বলে। মুহাম্মাদের (সা.) রিসালাত ধর্মে রিসালাতের ধারণাটি সেই প্রাচীন প্রথার রূপ ধরে এসেছে এবং সেই প্রথার সাথে ঘনিষ্ঠ মিল রাখে। আল্লাহ মানুষের সাথে মানুষের ভাষায় কথা বলছেন, মানুষের প্রথায় তাঁর ইচ্ছার বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন, কেননা মানুষ যা জানে, সে যে ভাষার কনভেনশনে যোগাযোগ করে, তার ঊর্ধ্বে উঠলে যোগাযোগ সম্ভব হবে না। তাই এই যোগাযোগ ও তৎসংশ্লিষ্ট ব্যাপারাদি মানুষের পরিচিত ও প্রচলিত প্রথায় করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে তার খলিফা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, (২:৩০) এর অর্থ হচ্ছে আমরা আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবো, তাঁর আনুগত্য করবো। কিন্তু আমরা কিভাবে তাঁর ইচ্ছা সম্পর্কে জ্ঞাত হবো, কীভাবে তাঁর আনুগত্যের বিষয়াদি জানবো, এবং জ্ঞাত বিষয়ের উপর দ্বিমতের স্থান দেখা দিলে সেই সমস্যার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ কে করবে? এমন যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর রয়েছে আল্লাহর রিসালাতের ব্যবস্থায়। আমরা আল্লাহর রাসূলের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছা জানবো, তাঁর রাসূলই বাণীর ব্যাখ্যা করবেন, দুনিয়ায় তাঁর পলিসি (রূপক অর্থে) কি -তাও রাসূলের মাধ্যমে জানাবেন এবং বাস্তবায়ন করিয়ে দেখাবেন। রাসূলের আরও দায়িত্ব রয়েছে। রাসূলকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি নামের পিছনে একেক অর্থ রয়েছে এবং দায়িত্বের ইঙ্গিতও রয়েছে। পূর্বকালে একজন দূত যখন কোন বাদশাহের পক্ষ থেকে অপর বাদশাহের কাছে যেতেন তখন তিনি সাথে করে তার দেশের ম্যাপ, তার রাজকীয় প্রাসাদের অবস্থান, তার জাতির পরিচিতি, তার জাতির ভৌগলিক অবস্থান, তার জাতি সংক্রান্ত তথ্য ইত্যাদি যাবতীয় কিছু চিঠির অংশ হিসেবে বহন করে নিতেন না। স্থান, কাল, অবস্থান, সমাজ ও সামাজিক প্রথার যাবতীয় তথ্য/তত্ত্ব উপস্থিত প্রেক্ষিতেই নিহিত থাকতো। সেই নিহিত জ্ঞানই যথেষ্ট ছিল। দূতের আগমন, তার আগমনের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত, উভয় পক্ষের পূর্বেকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক ইত্যাদি আপনাতেই ‘অর্থের’ (of meaning) পটভূমি হয়ে কাজ করতো এবং এখনো করে। যারা ভাষাতত্ত্বে জ্ঞানী তারা জানেন যে শব্দ ও বাক্যের অর্থ কেবল শব্দ ও বাক্যের মধ্যে নিহিত নয় –অর্থের বিরাট অংশ শব্দ ও বাক্যের বাহিরে (outside the text), তার সামাজিক প্রথাতে, ভাষার সামাজিক কনভেনশনে। তাই বাণী সবদিনই সংক্ষিপ্ত থাকে এবং তার পূর্ণ অর্থ ব্যাখ্যাতে আসে। আল্লাহ যখন মুহাম্মদকে (সা.) রাসূল নির্বাচিত করলেন তখন সেই বাণীতে রাসূলের সমাজ, গোত্র, তাদের ভৌগলিক অবস্থান, তাদের পরিচিতি ইত্যাদির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আসমান থেকে নাজিল করার প্রয়োজন হয়নি এবং হবার কথাও ছিল না। আল্লাহর বাণী ছিল সংক্ষিপ্ত, কেননা সেই বাণী একা ছিল না, এর পিছনে ছিলেন একজন মহান রাসূল যার অবস্থান ছিল নির্দিষ্ট এক সমাজে, নির্দিষ্ট এক ভূখণ্ডে, নির্দিষ্ট এক কালে (সময়ে)।. আল্লাহ মুহাম্মদকে (সা.) তাঁর বাণী-বাহক করাতে সব কিছু স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল –গোটা পরিপ্রেক্ষিত। রিসালাতের ধারণাতেই মৌলিক সব তাৎপর্য আপনাতেই ব্যক্ত হয়ে যায়। আল্লাহ মুহাম্মদকে (সা.) তাঁর রাসূল হিসেবে মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন, তিনি কি করবেন? তিনি সেই বাণীকে পৌছিয়ে দেবেন, সেই বাণীর ব্যাখ্যা করবেন, সেই বাণীর তাৎপর্য শিক্ষা দেবেন, বাস্তবের রূপ ও অর্থ বাস্তবতায় দেখিয়ে দেবেন এবং তাদের আত্মশুদ্ধির কাজ করবেন। এসব ক্ষেত্রে কারও দ্বিমত থাকতে পারবে না। তারা মুহাম্মদের (সা.) পূর্ণ আনুগত্য করবে (না হলে, প্রত্যেকেই ব্যাখ্যাকারী হয়ে আসল উদ্দেশ্য ধূলিসাৎ করে দেবে)।. আল্লাহ মুহাম্মাদকে (সা.) গোটা মানব জাতীর জন্য নির্বাচন করেছেন, তাই সেই বাণী, সেই বাণীর ব্যাখ্যা, সেই বাণীর শিক্ষা, সেই বাস্তব নমুনা, সেই আত্মশুদ্ধি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত হতে হবে। রাসূল প্রেরণের এই ব্যবস্থাটি কেবল মুহাম্মদকে (সা.) দিয়েই শুরু হয়নি, এটি নতুন কিছু নয়। আল্লাহ তাঁর আগে আরও রাসূল প্রেরণ করেছেন। সেই রসূলগণের দাওয়াতে তাদের জাতির লোকগণ কীভাবে সাড়া দিয়েছিল অথবা দেয় নাই, তাও বলেছেন। তাদের এক দল ঈমান এনেছিল আর আরেক করে ঈমান আনে নাই। যারা ঈমান এনেছিল তারা রাসূলের বাণীর সাথে সংযুক্ত হয়েছিল, তাদেরকে ‘ঈমানদার’, ‘সঙ্গী’ ‘সহকারী’ ইত্যাদি নামে ডাকা হয়েছিল। তারা আলাদা নামেও পরিচিত হয়েছেন। ঈসা (আ.) অনুসারী বা সাহায্যকারীরা ‘হাওয়ারি’ নামে ও মোহাম্মাদ (সা.) এর সঙ্গী-সাথি, সাহায্যকারীদেরকে ‘সাহাবা’ নামে। এরাই ছিলেন সেই বাণীর ভাজন (receptacle), আত্মশুদ্ধির কেন্দ্রস্থল, সেই বাণীর শিক্ষানবিশ, এদের মাধ্যমেই শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির পরম্পরা আসে, এদের বিহনে বাণী অর্থহীন হয়ে পড়ে, চিঠি তার প্রেক্ষিত হারায়, স্থান ও কাল থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। এরাই আবার বাণীর যুগপৎ সন্ধিস্থল, পারম্পারিক যোগসূত্র। এদের মর্যাদাও অপরিসীম। আল্লাহর তাঁর পয়গামে নবীদের কথা যেমন বলেছেন তেমনি বলেছেন সেই অনুসারীদের কথা, কেননা এদের জীবনেই ঘটেছে সেই বাণীর বাস্তবায়ন এবং তাঁরাই হয়েছেন সেই উজ্জ্বল বাণীর মশালধারী, তারাই ছড়িয়ে দিয়েছেন সেই আলো, সেই রূহানী, সেই জীবন সঞ্জীবনী।

 

 

Signature:

যে মন কর্তব্যরত নয় সে মন অনুপভোগ্য
উত্তর প্রদান করেছেন Senior User (264 পয়েন্ট)

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
2 টি উত্তর
19 জুন 2017 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Khan Sunny New User (0 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
2 টি উত্তর
05 ডিসেম্বর 2015 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ahmad666 Junior User (39 পয়েন্ট)
+1 টি ভোট
1 উত্তর
25 জুন 2015 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন King khan New User (1 পয়েন্ট )
0 টি ভোট
3 টি উত্তর
28 ডিসেম্বর 2014 "ধর্ম ও বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন এম এ সালাম তালুকদার New User (18 পয়েন্ট)

 

(হেল্পফুল হাব এ রয়েছে এক বিশাল প্রশ্নোত্তর ভান্ডার। তাই নতুন প্রশ্ন করার পূর্বে একটু সার্চ করে খুঁজে দেখুন নিচের বক্স থেকে)

(হেল্পফুল হাব সকলের জন্য উন্মুক্ত তাই এখানে প্রকাশিত প্রশ্নোত্তর, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর)

...